শিক্ষামূলক কাহিনি : একটি সম্ভবপর পরিকল্পনা ‍সামাজিক ন্যাবিচার | Educational Story On Social Injustice

 

শিক্ষামূলক কাহিনি : একটি সম্ভবপর পরিকল্পনা ‍সামাজিক ন্যাবিচার | Educational Story On Social Injustice

অল্প সংখ্যক মানুষের পক্ষে কি বহুজাতিক সংস্থার আচরণে কোনো ধরনের পরিবর্তন সাধন করা সম্ভব? অন্তত কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা সম্ভব, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন কলেজের সমাজবিজ্ঞানের একদল শিক্ষার্থী প্রমাণ করেছে।

শিক্ষকদের দেওয়া নির্দেশনা মতে শিক্ষার্থীদের যখন খ্রিষ্টানদের কোনো ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী কীভাবে বিশেষ সামাজিক পরিবর্তন আসনতে সক্ষম তা লক্ষ্য করার জন্য বলা হয়, তখন তারা দরিদ্রগ্রস্ত হাইতির বহুজাতিক কোম্পানি গাল্ফ অ্যান্ড ওয়েস্টার্নর দিকে মনোনিবেশ করে। তাদের প্রস্তাবটি এতটাই দুঃসাহসী ছিল যে একজন শিক্ষার্থী সাহস করে বলেছিল “আমরা কেন তা করছিনা কেনা? তার চিন্তা করে কীভাবে প্রস্তাবটিকে কলেজের কাগজ-পত্রে সীমাবদ্ধ না রেখে তাকে প্রকৃতপক্ষে কাজে লাগানো যাবে কিনা।

তাদের পদ্ধতি ছিল খুবই সাদামাটা। তাদের অধ্যাপক টনি ক্যাম্পোলকে সাথে করে তারা প্রত্যেকে গাল্ফ অ্যান্ড ওয়েস্টার্ন থেকে শেয়ার ক্রয় করেন এবং কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার হিসেবে তারা সবাই কোম্পানি বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থিত হয়। শেয়ারহোল্ডার হিসাবে তারা কোম্পানির পরিচালনা কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলার তাদের অধিকার রয়েছে, আর তাই একে একে উঠে দাঁড়িয়ে বাইবেলে অন্যায়-অবিচারের নিন্দা করা সকল অনুচ্ছেদগুলি (যেমন যিরমীয় ২২:১২-১৪) পড়ে। তারপর তারা কোম্পানির প্রশ্ন ছুড়ে কোনো তারা হাইতির গরীব মানুষদের প্রতি অবিচার করছে।

তারা চেয়েছিল কোম্পানি যেন চিনি কারখানার শ্রমিকদের নিম্ন মজুরির বিষয়টি আমলে আনুক, আর তারা যে দেশটিকে ক্রমে ক্রমে এক ফসলের উপর নির্ভরশীল করে তুলেছে সে বিষয়টি নিয়ে কিছু করুক এবং জনগণের জন্য শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা সরবরাহ করুক।

উদ্দেশ্য ছিল পরিচালকদের লজ্জায় ফেলা আর তাদের সেই উদ্দেশ্য ছিল খুবই কার্যকর। গাল্ফ অ্যান্ড ওয়েস্টার্ন পরিচালকরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য শিক্ষার্থীদের সাথে দেখা করার জন্য আমন্ত্রণ জানান। আঠারো মাস পরে গাল্ফ অ্যান্ড ওয়েস্টার্ন ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ উপায়ে কার্যক্রম পরিচালনার একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করে।

তারা ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা সৃষ্টির লক্ষ্যে মাউন্ট সিনাই মেডিকেল সেন্টারের সাথে অংশীদারিত্বে আসবে, ডো
মিনিকান জনগণের জন্য খাদ্য উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট পরিমাণে মানসম্পন্ন জমি আলাদা করে রাখবে এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম চালু করবে যার মধ্যে একটি হবে যা ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সাথে যুক্ত হয়ে নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন করা যা শিক্ষক, আইনজীবী, নার্স এবং প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ দেবে।

পরবর্তী পাঁচ বছরে গাল্ফ অ্যান্ড ওয়েস্টার্ন তাদের পরিকল্পনা অনুসরণ/বাস্তবায়নে অর্ধ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। এবং নাটকীয়ভাবে হাজার হাজার মানুষের জীবনের উন্নত হয়।

মুরাল: সৎ উদ্দেশ্য ও মানব উন্নয়নের তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকলে অল্প সংখ্যক হলেও মানুষ সামাজিক অবিচার দূর করতে পারে। আমাদের উচিত অবিচার করা মানুষগুলিকে তাদের অবিচারের প্রতি দৃষ্টি উন্মোচন করা।

সূত্র: শিক্ষার্থীদের শিক্ষক টনি কম্পোলোর You Can Make a Difference and Let Me Tell You a Story থেকে নেওয়া।

Post a Comment

Previous Post Next Post